1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ১২ ডিসেম্বরের আগেই সমঝোতার আশা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো পানিপ্রবাহের নিশ্চয়তা সংবলিত ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করাকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোর ভিত্তিতে চুক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সময়ে পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, সেখানে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে নতুন চুক্তিতে ওই নিশ্চয়তা সংবলিত ধারা রাখা হয়নি। এবার বাংলাদেশ নতুন চুক্তিতে এ ধরনের একটি নিশ্চয়তা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পদ্মা ব্যারাজের কাজ শিগগিরই দৃশ্যমান

পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এর সুফল পাবে।

তিনি আরও জানান, পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্টাডির কাজে দীর্ঘ সময় লেগেছে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্টাডির বিভিন্ন পর্যায় চললেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগোয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তুতি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকার সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী এবং উজান থেকে পানির প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা জরুরি।

এ জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিয়ে দ্রুত ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তিস্তা প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

দেশের মানুষের স্বার্থই অগ্রাধিকার

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা নদীর তীরবর্তী মানুষ বাংলাদেশেরই নাগরিক। তাদের স্বার্থ ও প্রত্যাশাই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই রাতারাতি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও গবেষণার মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মতভাবে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews