দেশের চিত্র ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নাম সরিয়ে পুনরায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে হলের প্রবেশপথে নাম পরিবর্তনের কাজ শুরু করে হল প্রশাসন।
হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
লিখিত আবেদন করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জবান আলী বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো লিখিত আবেদন নেই। তবে শিক্ষার্থীরা বারবার মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। হলের নাম নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে অভিভাবকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সনদপত্রে এক নাম থাকলেও পরিচয়ের ক্ষেত্রে অন্য নাম ব্যবহৃত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের প্রধান ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা তখন নাম পরিবর্তন করেন।
পরে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন ডাকসুর কয়েকজন নেতা। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় হলটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়।
একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার সুপারিশও করা হয়েছিল।
তবে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। ওই সময় নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এদিকে, হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, শিক্ষার্থীদের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সব মিলিয়ে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।