দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক কারবার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র্যাব সদস্য নিহতের ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা বেড়েছে। গত শুক্রবার পুলিশ অভিযান চালালে পালানোর সময় এক ছিনতাইকারী র্যাব কনস্টেবল ইমন আচার্যকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যের এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, সাভারে মাদক কারবারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের মারধর করে এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে বগুড়ায়ও দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন এক সাংবাদিক। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
একটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অপরাধীরা যদি দ্রুত বিচার ও শাস্তির বাইরে থেকে যায়, তাহলে অপরাধ বাড়তেই থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার আশ্রয়ে অপরাধী চক্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
বর্তমান সরকার সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছে। এখন প্রয়োজন এর কার্যকর বাস্তবায়ন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হলে সত্য প্রকাশের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অপরাধ দমনে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইনের ফাঁক গলে যেন কোনো অপরাধী পার পেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই হবে।