শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এসব সমস্যার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম সহজে ধরা পড়ছে না। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন তদারকি সংস্থা রয়েছে। তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না হলে শিক্ষা খাতে দুর্নীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে কিছু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ ছাড়া কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি বড় সমস্যা। শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদানের অভাবে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত খরচ করে কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। একটি দক্ষ, নৈতিক ও সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। সরকারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।