1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলা: কাজী কেরামত আলীকে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দাবি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ঢাবির হলে সরানো হচ্ছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নাম, ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ ওসমান হাদিকে জামায়াতের হুমকির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের ইসলাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও নৈতিকতার প্রশ্ন ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা: জ্ঞানের আলোয় মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব ইসলামের দৃষ্টিতে হিংসার আগুন ও বিদ্বেষের মরণব্যাধি HRW Warns of Renewed Political Repression Amid Mass Arrests in Bangladesh গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ১২ ডিসেম্বরের আগেই সমঝোতার আশা Freedom of Expression Under Pressure in Bangladesh: Human Rights Concerns

ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধানদের মৃত্যুদণ্ড: ইতিহাসের নির্মম অধ্যায়

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের চিত্র প্রতিবেদন

ইতিহাসজুড়ে ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধানদের পতন অনেক সময়ই সহিংস ও নাটকীয় হয়েছে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের পর বিভিন্ন সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। কোথাও এসব বিচার ন্যায়বিচারের প্রতীক, আবার কোথাও তা রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।

নিকোলায় চাউশেস্কু

রুমানিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Nicolae Ceaușescu ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। কমিউনিস্ট শাসনের পতনের সময় তাকে ও তার স্ত্রীকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার করা হয়। গণহত্যা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৯৮৯ সালের বড়দিনে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জুলফিকার আলী ভুট্টো

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী Zulfikar Ali Bhutto ১৯৭৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। একটি বিতর্কিত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৯৭৯ সালে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তার বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ বলে ঘোষণা করা হয়।

সাদ্দাম হোসেন

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট Saddam Hussein ১৯৭৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়—যা আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত বিচারগুলোর একটি।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি

লিবিয়ার সাবেক শাসক Muammar Gaddafi ২০১১ সালে বিদ্রোহের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন। তাকে আটক করার পর বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

মেংগিস্তু হাইলি মারিয়াম

ইথিওপিয়ার সাবেক শাসক Mengistu Haile Mariam ‘রেড টেরর’-এর সময় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। বর্তমানে তিনি নির্বাসনে রয়েছেন।

 চুন দু-হোয়ান

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Chun Doo-hwan সামরিক অভ্যুত্থান ও গওয়াংজু বিদ্রোহ দমনের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে তার সাজা মওকুফ করে ক্ষমা করা হয়।

জোসেফ কাবিলা

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সাবেক প্রেসিডেন্ট Joseph Kabila ২০২৫ সালে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি বর্তমানে পলাতক এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শেখ হাসিনা

 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও নিশ্চিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে তাকে ইতিহাসে নিশ্চিতভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধানদের মৃত্যুদণ্ড ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এসব বিচার সবসময় একই রকম নয় কখনো তা ন্যায়বিচারের প্রতিফলন, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিটি ঘটনাই একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা নির্দেশ করে।

 

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews