1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
Tehran Projects Strength as Unrest Continues এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদল–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ সহিংস বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৫০ নিরাপত্তাকর্মী, ক্ষয়ক্ষতি বহু শহরে ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, কুয়াশায় আচ্ছন্ন নদী অববাহিকা হলফনামায় মির্জা আব্বাসের ৬৮ কোটি টাকার সম্পদ, তিনটি অস্ত্রের তথ্য ১৯ বছর পর পৈতৃক জেলা বগুড়ায় তারেক রহমান, রোববার প্রথম সফর কলম্বিয়ায় সরকার পতনের হুমকি ট্রাম্পের, কিউবা নিয়ে পতনের ইঙ্গিত মাদুরো আটক: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কড়া নিন্দা চীন ও রাশিয়ার মৌলভীবাজার জেলা কী জন্য বিখ্যাত ?

যুদ্ধই এক ধরনের ব্যবসা: মানবতার উপর অর্থনৈতিক শোষণের ছায়া

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব ইতিহাসে যুদ্ধ প্রায়শই রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে সংঘটিত হলেও, এ নিয়ে অনস্বীকার্য একটি বাস্তবতা রয়েছে—যুদ্ধও একটি বিশাল ব্যবসা। অস্ত্রশিল্প, নিরাপত্তা খাত, এবং যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে নানা রাষ্ট্র, কর্পোরেশন ও গোষ্ঠী এই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হয়। শুধুমাত্র মানবিক ক্ষতির দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও যুদ্ধকে একটি ব্যবসায়িক পরিমণ্ডল হিসেবে দেখা যায়।

যুদ্ধকালীন অর্থনীতি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করে। প্রথমত, সরাসরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন ও বিক্রয়। বিশ্বের কিছু দেশ ও কর্পোরেশন বছরের পর বছর ধরে এই শিল্পে লক্ষাধিক কোটি ডলারের লেনদেন করে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধকালীন সময়ে পুনর্গঠন ও অবকাঠামো পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চক্র আরও প্রসারিত হয়। যুদ্ধের পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্গঠন শুরু হলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন লাভবান হয়। তৃতীয়ত, যুদ্ধকালীন ঋণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সাহায্যও একটি বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করে।

বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসে যুদ্ধকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাত প্রায়শই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিতে সংঘটিত অনেক যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নয়, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্যও সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন উপকরণ ও খনিজ সম্পদ যুদ্ধের পেছনে অর্থনৈতিক প্ররোচনা হিসেবে কাজ করে।

তবে যুদ্ধের ব্যবসায়িক দিকের সবচেয়ে বড় নৈতিক সমস্যা হলো মানবিক ক্ষতি। সাধারণ মানুষ, শিশুরা, এবং স্থানীয় জনগণ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার। বিশাল মানবাধিকার লঙ্ঘন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষতি—সবই এ ব্যবসার অঙ্গ। অর্থনৈতিক লাভ অর্জনকারী রাষ্ট্র বা কর্পোরেশন প্রায়শই এই মানবিক ক্ষতির দিক উপেক্ষা করে।

বিশ্ব ব্যাংক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি কিছু ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে সহায়ক হলেও, এটি স্থায়ী উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, যুদ্ধ শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সামরিক সমস্যা নয়, এটি এক ধরণের আর্থিক চক্র যা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় রাখে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধকে “ব্যবসা” হিসেবে দেখা যায়, কারণ এতে বহু রাষ্ট্র, কর্পোরেশন এবং মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠী উপকৃত হয়। কিন্তু এর বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবন ও মানবাধিকারের মূল্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যুদ্ধকে কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক প্রেক্ষাপটেই নয়, অর্থনৈতিক এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বোঝা প্রয়োজন।

যুদ্ধ কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাত নয়; এটি একটি জটিল আর্থিক ও মানবিক ব্যবসা। অস্ত্র শিল্প, পুনর্গঠন খাত, ঋণ ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের মাধ্যমে এটি বহু পক্ষের লাভের সুযোগ তৈরি করে, তবে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত। তাই বিশ্বের বিভিন্ন অংশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুদ্ধকে শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, একটি নৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখার প্রয়োজন।

Share this Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Weekly Desher Chitra developed by LogoMyface