1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

অতিরিক্ত চিনি ও অ্যালকোহলে লিভারে জমে চর্বি, বাড়তে পারে সিরোসিসের ঝুঁকি

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অতিরিক্ত চিনি ও অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাস লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও স্থূলতা যুক্ত হলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি আরও বাড়ে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষতি হয়ে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কীভাবে লিভারের ক্ষতি হয়?

লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণে সহায়তা করে। পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও হরমোন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, পরিশোধিত চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ ছাড়া স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি ও কিছু বংশগত কারণও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার অবস্থাকে সাধারণভাবে ফ্যাটি লিভার রোগ বলা হয়।

ফ্যাটি লিভার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

লিভারে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকলে প্রদাহ ও লিভার কোষের ক্ষতি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে লিভারে ফাইব্রোসিস বা ক্ষত তৈরি হতে শুরু করতে পারে।

ক্ষত ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে সিরোসিস হতে পারে। এতে স্বাভাবিক লিভার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যান্সারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনও হতে পারে।

তবে লিভারে চর্বি জমলেই যে সিরোসিস হবে, এমন নয়। অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। কিন্তু প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি শুরু হলে ধীরে ধীরে রোগটি গুরুতর পর্যায়ে যেতে পারে।

লিভার সুস্থ রাখবেন যেভাবে

লিভার সুস্থ রাখতে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

আঁশযুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ খাবার বেশি খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যালকোহল গ্রহণও সীমিত রাখা জরুরি।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লিভার পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব। একই সঙ্গে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসে রোগটি অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকিও কমানো যেতে পারে।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews