লাইফস্টাইল ডেস্ক
বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে ফ্যাটি লিভার রোগ দ্রুত বাড়ছে। একসময় এটি তুলনামূলক কম পরিচিত সমস্যা হলেও এখন শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাদের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমছে, কারণ রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এ কারণেই ফ্যাটি লিভারকে “নীরব ঘাতক” বলেও অভিহিত করা হয়।
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। এটি খাবার হজমে সাহায্য করে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। কিন্তু যখন লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে, তখন সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। সাধারণত দুই ধরনের ফ্যাটি লিভার দেখা যায় অ্যালকোহলজনিত এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। বর্তমানে দ্বিতীয় ধরনের রোগীর সংখ্যাই বেশি। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস এর প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্যাটি লিভার শুরুতে তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি লিভার সিরোসিস কিংবা লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার প্রবণতার কারণে অনেকেই রোগটি দেরিতে শনাক্ত করেন। তখন চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা বৃদ্ধি। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় কম খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
সরকার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। গণমাধ্যমে প্রচার, স্কুল-কলেজে স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কারণ প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
ফ্যাটি লিভার হয়তো প্রথমে নীরব থাকে, কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুস্থ জীবনযাপনই পারে এ ঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।