আগামী মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে স্পেনে চলতি গ্রীষ্মের তৃতীয় তাপপ্রবাহ শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এইএমইটি) জানিয়েছে, এ সময় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং কোথাও কোথাও তা ৪৫ ডিগ্রিও অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ু দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের কারণে স্পেনের ওপর অবস্থান করবে। ফলে টানা কয়েকদিন অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করবে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই পর্যন্ত তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে দেশের কিছু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এইএমইটি সতর্ক করে জানিয়েছে, দিনের মধ্যভাগে তাপজনিত ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকবে। বাইরে কর্মরত ব্যক্তি, বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থ মানুষের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চলতি গ্রীষ্মে এর আগে স্পেন আরও দুটি তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। জুনের শেষের দিকে আঘাত হানা প্রথম তাপপ্রবাহ ইউরোপজুড়ে একাধিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দেয়। দ্বিতীয়টি শুরু হয় জুলাইয়ের প্রথম দিকে।
আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে গ্রীষ্মের প্রথমার্ধ সবচেয়ে উষ্ণ ছিল। ১ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১–২০২০ সময়কালের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি বেশি।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তাপপ্রবাহের তীব্রতা, স্থায়িত্ব ও পুনরাবৃত্তির হার বাড়ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমে বনাঞ্চল শুকিয়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে ১৩ জন নিহত হন। ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটির অন্যতম প্রাণঘাতী দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।