একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। একটি সন্তান হঠাৎ নিখোঁজ হলে তার পরিবার যে অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অথচ দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। কোনো শিশু হারিয়ে যাচ্ছে পথেঘাটে, কেউ স্কুল থেকে ফেরার পথে, আবার কেউ পরিচিত পরিবেশ থেকেই নিখোঁজ হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনাই আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
শিশু নিখোঁজের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। পারিবারিক বিরোধ, অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভন, অপহরণ, পাচার, অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতারণা কিংবা অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে কোনো শিশু নিখোঁজ হতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। একটি শিশুকে খুঁজে পেতে যত সময় বেশি লাগে, তার ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, মোবাইল ও ডিজিটাল তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান জোরদার করা দরকার। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশুদের নিরাপদ পুনর্বাসন এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট শিশুদের একা বাইরে না পাঠানো, তাদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের তথ্য রাখা, অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ না করার বিষয়ে শেখানো এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে বয়স উপযোগী ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে।
তবে শুধু পরিবারকে সতর্ক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ রাস্তা, কার্যকর নজরদারি, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর ঘটনা আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা এবং কোনো শিশুর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই শিশু নিখোঁজের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর পেছনের কারণ চিহ্নিত করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা শুধু অভিভাবকের দায়িত্ব নয় এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।