সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। সকাল থেকে রায় পাঠ শুরু হয়ে দুপুরে তা ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত হলে তাকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। এছাড়া তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য ধারায় তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মাসুম, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিজবাউল ইসলাম রাজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকলে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন বলেন, মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এক নবদম্পতি এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে গেলে তাদের জিম্মি করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীকে আটকে রেখে প্রাইভেটকারের ভেতর গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শাহপরান (র.) থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। একই ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলাও হয়, যার বিচার একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার বিচারকালে ভুক্তভোগী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে।