1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বর্তমান সময়ে পরকীয়া গাণিতিক হারে বৃদ্ধি ইরানে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এর প্রকাশিত তালিকায় ফজলুর রহমানের নাম নেই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী সিলেটি ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি: সাংস্কৃতিক পরিচয় না কি বাস্তব চ্যালেঞ্জ? পিএইচডি কী? উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি শুরু, আবেদনের শেষ সময় ২১ মে গরুর মাংস ও ব্রোকলি: পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এক পারফেক্ট রেসিপি আবার কমল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা মৌলভীবাজারে তিন দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান মেলা

বর্তমান সময়ে পরকীয়া গাণিতিক হারে বৃদ্ধি

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিশ্লেষণ

সমসাময়িক সমাজে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দ্রুত বিস্তার লাভ করছে পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে এটি পরিবার, সমাজ ও নৈতিক কাঠামোর ওপর গভীর আঘাত হানে। আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, সামাজিক পরিবর্তন এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে এ ধরনের সম্পর্ক যেন “গাণিতিক হারে” বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে এর ভয়াবহতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।

পরকীয়ার বিস্তারের কারণ

প্রথমত, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমগুলো মানুষের মধ্যে গোপন যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। আগে যেখানে সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন ছিল, এখন তা কয়েকটি ক্লিকেই সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক দূরত্ব, সময় না দেওয়া, পারস্পরিক সম্মানহীনতা—এসব কারণে অনেকেই বাইরের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দাম্পত্য জীবনে অসন্তোষ থাকলেও তা সমাধানের পরিবর্তে মানুষ বিকল্প পথে হাঁটে।

তৃতীয়ত, নৈতিক শিক্ষার অভাব। সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা কমে যাওয়ায় মানুষ পাপ-পুণ্যের বোধ হারিয়ে ফেলছে। যা আগে লজ্জার বিষয় ছিল, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

চতুর্থত, মিডিয়া ও সংস্কৃতির প্রভাব। সিনেমা, নাটক বা অনলাইন কনটেন্টে পরকীয়াকে অনেক সময় রোমান্টিক বা আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হয়, যা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে।

ইসলামে পরকীয়ার অবস্থান

ইসলামী শরিয়তে পরকীয়া একটি গুরুতর অপরাধ, যা “যিনা” নামে পরিচিত। কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।”

এ আয়াতে শুধু যিনা নয়, বরং তার কাছাকাছি যাওয়ার পথগুলোকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ এমন সব কাজ যা পরকীয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে সেগুলো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র বন্ধন। এটি শুধু সামাজিক চুক্তি নয়, বরং একটি ইবাদত। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ব ও বিশ্বস্ততার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে অন্য কারও সঙ্গে গোপন বা অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পরকীয়ার ক্ষতিকর প্রভাব

১. পরিবার ধ্বংস

পরকীয়া প্রথম আঘাত হানে পরিবারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস ভেঙে যায়, যা পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এবং সন্তানরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. সামাজিক অস্থিরতা

পরকীয়া সমাজে অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এটি সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং নৈতিক অবক্ষয় বাড়ায়।

৩. মানসিক যন্ত্রণা

যারা প্রতারণার শিকার হন, তারা গভীর মানসিক আঘাত পান। অপরাধী ব্যক্তিও অপরাধবোধ, ভয় ও অস্থিরতায় ভোগেন।

৪. আধ্যাত্মিক ক্ষতি

ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি বড় গুনাহ। এর ফলে মানুষের ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসলামে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

ইসলাম শুধু নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, বরং প্রতিরোধের পথও দেখিয়েছে।

১. দৃষ্টি সংযম

পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই দৃষ্টি সংযমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অশালীন দৃষ্টি অনেক সময় সম্পর্কের সূচনা ঘটায়।

২. পর্দা ও শালীনতা

পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। এটি সমাজে পবিত্রতা বজায় রাখতে সহায়ক।

৩. অবাধ মেলামেশা পরিহার

নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অনেক সময় অনৈতিক সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায়। তাই ইসলামে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

৪. বিবাহ সহজ করা

ইসলাম বিবাহকে সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যাতে মানুষ বৈধ উপায়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

দাম্পত্য জীবনে করণীয়

পরকীয়া প্রতিরোধে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • যোগাযোগ বৃদ্ধি করা: একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা।
  • সময় দেওয়া: ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের জন্য সময় বের করা।
  • সম্মান ও ভালোবাসা: ছোটখাটো বিষয়েও সম্মান প্রদর্শন করা।
  • ধর্মীয় চর্চা: একসঙ্গে ইবাদত করলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

পরকীয়া প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও।

  • পরিবারে ধর্মীয় শিক্ষা জোরদার করা
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা
  • মিডিয়ায় ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রচার করা
  • সামাজিকভাবে অনৈতিক কাজকে নিরুৎসাহিত করা

পরকীয়া সাময়িক আনন্দের প্রতিশ্রুতি দিলেও এর পরিণতি ভয়াবহ। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সবকিছুকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ইসলামী শরিয়ত এই কারণেই পরকীয়াকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর প্রতিরোধে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

বর্তমান সময়ে যখন এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, তখন প্রয়োজন সচেতনতা, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে ফিরে আসা। ব্যক্তি যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পরিবার যদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং সমাজ যদি নৈতিকতা রক্ষা করে তবেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মানবজীবনের প্রকৃত শান্তি ও সফলতা নিহিত রয়েছে সৎ পথে চলায়, আর সেই পথই নির্দেশ করে ইসলামী শরিয়ত।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews