আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশ একটি এক পাতার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে অগ্রসর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান জানতে চায় ওয়াশিংটন। যদিও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এটিই দুই পক্ষের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
খসড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে। এরপর ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলবে।
তবে এই সমঝোতার অনেক বিষয়ই ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আপাতত সংঘাত কমলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে যেকোনো সমঝোতায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। এমনকি প্রাথমিক সমঝোতাও শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, বর্তমানে ১৪ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। উভয় পক্ষ সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভার নাম উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতা চাইছে, অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি শর্তে রাজি হতে আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত এই সময়সীমা এক দশকের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলো উন্মুক্ত রাখতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত একটি চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজন নেই। তিনি স্বচ্ছ ও কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তার ওপর।
সূত্র: এক্সিওস