কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের চামড়া শিল্পে ঋণ বিতরণে আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণের ঝুঁকির কারণে ব্যাংকগুলো এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে চামড়া খাতে নতুন ঋণ বরাদ্দ ও বিতরণেও প্রভাব পড়েছে।
চলতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পাঁচটি ব্যাংক মোট ২৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং একটি বেসরকারি ব্যাংক।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, যেসব গ্রাহক আগের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করেছেন, মূলত তারাই নতুন ঋণ পাবেন। খেলাপি বা অনিয়মিত গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ অনুমোদনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
চামড়া শিল্পের প্রধান কাঁচামাল পশুর চামড়া, যার প্রায় ৭০ শতাংশ সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদের সময়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কার্যকর মূলধনের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থায়নের বড় অংশ দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে চামড়া খাতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদের সময় যাতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহে সংকট না হয় এবং চামড়া নষ্ট বা পাচার না হয়, সে জন্য দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, ঘোষিত ঋণের পুরোটা বাস্তবে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ অভিযোগ করেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় নতুন অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না হলে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সংকট তৈরি হতে পারে, যা পুরো চামড়া শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।