প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।
আনোয়ার হোসেন সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি এনসিপির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় আনোয়ার হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দীপুসহ আরও চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম লেখা একটি কাগজ পায়ের নিচে রেখে তোলা ছবি ফেসবুকে প্রকাশের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা বাদী রুহুল আমিনসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী রুহুল আমিন মিঝি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আমি থানায় মামলা করেছি।”
অন্যদিকে এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার লোক আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর এ ধরনের হামলা নিন্দনীয়।”
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ওই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার এবং বাদীসহ অন্যদের মারধরের অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”