দেশের চিত্র প্রতিবেদক
রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ওই বাড়ি থেকে নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার রাতে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকার বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী ছিলেন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দিয়ে এসব পার্টির আয়োজন করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাসে প্রায় ২০ থেকে ২২টি পার্টি অনুষ্ঠিত হতো এবং প্রতিটি আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদক উদ্ধারের দাবি পুলিশের
ডিবির দাবি, বাড়িটিতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর পাশাপাশি মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। অভিযানে তিন বোতল মদ, ইয়াবা, কুশ নামের মাদকদ্রব্য এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানের সময় বাড়িটির আশপাশে প্রায় ২২টি গাড়ি দেখা যায় বলেও জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন ও বুকিংয়ের ভিত্তিতে এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া যেত। পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকাররাও অংশ নিতেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তরুণদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তরুণীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের অতিরিক্ত তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়িটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাড়ির মালিকের বক্তব্য
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফরমে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় অবৈধ কর্মকাণ্ড না করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ভাড়াটিয়ারা সেই শর্ত ভঙ্গ করে কোনো অপরাধে জড়ালে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তানো উচিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে আয় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।