শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে সেই প্রত্যাবর্তন দেশের জন্য স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে, নাকি নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দেবে—তা নির্ভর করবে প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি দেখেছে। একই সঙ্গে তাঁর শাসনামল নিয়ে নির্বাচনব্যবস্থা, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন-পীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যক্তির ফিরে আসা নয়; এটি অতীতের অর্জন ও বিতর্ক দুটিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে আসবে।
তিনি দেশে ফিরলে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক উদ্দীপনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে এর প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশ যেন কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক ভাগ্যকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে। শেখ হাসিনা ফিরবেন কি ফিরবেন না, সেটির চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, দেশে কি এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং জনগণের মতামতই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি?
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন যদি প্রতিহিংসার রাজনীতিকে আরও উসকে দেয়, তবে দেশ আবারও সংঘাতের চক্রে পড়তে পারে। আর যদি তা আইনের শাসন, রাজনৈতিক সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঘটে, তবে সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
অতএব, ব্যক্তি নয় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থই হওয়া উচিত সবার আগে।