মানুষের হৃদয় যখন হিংসা ও বিদ্বেষে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তার অন্তরের প্রশান্তি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। অন্যের সুখ তাকে ব্যথিত করে, অন্যের সাফল্য তার মনে জ্বালা সৃষ্টি করে, আর অন্যের ব্যর্থতা তাকে আনন্দিত করে। এভাবে হিংসুক মানুষ নিজের অজান্তেই নিজের হৃদয়কে অশান্তির এক জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করে।
হিংসা এমন এক নীরব ব্যাধি, যা প্রথমে মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে, পরে তার চিন্তা, আচরণ ও সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে। হিংসুক ব্যক্তি অনেক সময় নিজেকে বিজয়ী মনে করে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে নিজের বিবেক, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক পবিত্রতার বিরুদ্ধে এক অবিরাম যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। সে নিজেকে শক্তিশালী ভাবে, অথচ অন্যের সামান্য সাফল্যই তার অন্তরকে দুর্বল করে দেয়।
হিংসার পরিণতি কেবল ব্যক্তিগত অশান্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনেও ফাটল ধরায়। আর যখন হিংসার সঙ্গে বিদ্বেষ, অহংকার ও প্রতিশোধস্পৃহা যুক্ত হয়, তখন তা মানুষকে অন্যায়, মিথ্যাচার, অপবাদ ও ষড়যন্ত্রের পথে ঠেলে দিতে পারে।
হিংসা হলো—আল্লাহ তাআলা অন্য কাউকে যে নিয়ামত দান করেছেন, তা তার কাছ থেকে চলে যাক—এমন কামনা করা। অন্যের সম্পদ, প্রতিভা, সম্মান, সুখ কিংবা সাফল্য দেখে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা এবং তার নিয়ামত নষ্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা হিংসার অন্যতম লক্ষণ।
তবে অন্যের ভালো কিছু দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া এবং নিজের জন্যও অনুরূপ কল্যাণ কামনা করা হিংসা নয়। বরং তা হতে পারে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। ইসলামে অন্যের কল্যাণ নষ্ট করার আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে নিজের উন্নতি এবং সবার জন্য কল্যাণ কামনা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
হিংসার ভয়াবহতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—
“তোমাদের কোনো কল্যাণ হলে তারা দুঃখিত হয়, আর তোমাদের কোনো অকল্যাণ হলে তারা আনন্দিত হয়।”
সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১২০-এর ভাবার্থ
হিংসুক ব্যক্তি অন্যের নিয়ামত দেখে আল্লাহর প্রশংসা করতে পারে না, নিজের প্রাপ্ত নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হতে পারে না। ফলে সে ক্রমাগত অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে থাকে। তার দৃষ্টি থাকে অন্যের প্রাপ্তির দিকে, অথচ নিজের জীবনে আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নিয়ামত তার চোখে পড়ে না।
এভাবেই অকৃতজ্ঞতা, অসন্তোষ ও বিদ্বেষ তার অন্তরকে গ্রাস করে।
হিংসার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এটি অন্যের ক্ষতি করার আগেই হিংসুকের নিজের অন্তরকে দগ্ধ করে। যার প্রতি হিংসা করা হয়, সে হয়তো নিজের জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে চলে; কিন্তু হিংসুক ব্যক্তি তার সুখ-সাফল্যের চিন্তায় নিজের শান্তি নষ্ট করতে থাকে।
অন্যের সম্মান তাকে অস্থির করে, অন্যের উন্নতি তাকে হতাশ করে, আর অন্যের আনন্দ তার মনে দুঃখের জন্ম দেয়। এভাবে সে এমন এক মানসিক কারাগারে বন্দী হয়, যার তালা খুলে দেওয়ার ক্ষমতা অন্য কারও হাতে নেই।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন—
“বলো, তোমরা তোমাদের রাগ নিয়ে মরো! নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত।”
সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১১৯-এর অংশবিশেষের ভাবার্থ
মানুষের মর্যাদা, সম্পদ, প্রতিভা ও সুযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এসব পার্থক্য কারও অহংকার কিংবা অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারণ হতে পারে না। বরং প্রত্যেকের উচিত নিজের দায়িত্ব পালন করা, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং অন্যের কল্যাণ কামনা করা।
কখনো অন্তরে হিংসার অনুভূতি জন্ম নিলে তা পুষে না রেখে দ্রুত দূর করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ অন্তরে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র বিদ্বেষও অবহেলায় একসময় বড় অন্যায়ে পরিণত হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন—
“তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না, একে অন্যের পেছনে লেগে থেকো না, একে অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ কোরো না; বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও, পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।”
জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ১৯৩৫
এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইসলামের সৌন্দর্য কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতে নয়; বরং মানুষের প্রতি সদাচরণ, আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণকামিতার মধ্যেও নিহিত।
অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তার ক্ষতি কামনা করে কিংবা তাকে অপমানিত করার চেষ্টা করে একজন মানুষ নিজের চরিত্রকেই কলুষিত করে। হিংসা যদি তাকে গিবত, অপবাদ, মিথ্যা ও অন্যায়ের পথে পরিচালিত করে, তাহলে তার আমল ও আখিরাতের জন্য তা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে—
“তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থেকো। কারণ হিংসা নেক আমল গ্রাস করে নেয়, যেভাবে আগুন কাঠ গ্রাস করে।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৯০৫
অতএব, হিংসাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এটি শুধু মনের একটি খারাপ অনুভূতি নয়; বরং নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় মানুষের নৈতিকতা, সম্পর্ক ও আমলের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবসৃষ্টির সূচনালগ্নে ইবলিসের পতনের অন্যতম কারণ ছিল অহংকার ও আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ অবস্থান। আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সম্মান জানাতে ফেরেশতাদের সিজদা করার নির্দেশ দিলে ইবলিস অস্বীকার করে। সে নিজের সৃষ্টিগত উপাদানকে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরে।
তার এই আচরণ আমাদের শিক্ষা দেয়, অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণে বাধা দেয়। অন্যের মর্যাদা মেনে নিতে না পারা এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করা মানুষকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আদম (আ.)-এর দুই পুত্র কাবিল ও হাবিলের ঘটনা মানব ইতিহাসে হিংসার ভয়াবহ পরিণতির অন্যতম দৃষ্টান্ত। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, তাদের একজনের কোরবানি কবুল হওয়ার পর অন্যজন ঈর্ষা ও বিদ্বেষে তার ভাইকে হত্যার হুমকি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে।
এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, অন্তরের হিংসা নিয়ন্ত্রণ না করলে তা মানুষকে কতটা নির্মম ও অপরাধপ্রবণ করে তুলতে পারে।
নবী ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি তাঁর ভাইদের ঈর্ষা ও বিদ্বেষের ঘটনা পবিত্র কোরআনের সুরা ইউসুফে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা মনে করতেন, তাঁদের পিতা ইয়াকুব (আ.) ইউসুফ (আ.) ও তাঁর সহোদর ভাইকে বেশি ভালোবাসেন। এই ধারণা থেকে তাঁদের অন্তরে হিংসা জন্ম নেয়। একপর্যায়ে তাঁরা ইউসুফ (আ.)-কে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন এবং তাঁকে কূপে ফেলে দেন।
কিন্তু মানুষের ষড়যন্ত্র আল্লাহর পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করতে পারে না। দীর্ঘ পরীক্ষা ও কষ্টের পর আল্লাহ ইউসুফ (আ.)-কে সম্মানিত করেন।
এই ঘটনা আমাদের শেখায়, হিংসা পারিবারিক সম্পর্কেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। তাই সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং অন্তরের পবিত্রতা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোরআনে আহলে কিতাবের একদল মানুষের এমন মনোভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও বিদ্বেষবশত মুমিনদের ঈমান থেকে ফিরিয়ে দিতে চাইত। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও কেবল নিজেদের অন্তর্গত হিংসাবশত তারা তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিতে চায়।”
—সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১০৯-এর ভাবার্থ
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, অন্তরের বিদ্বেষ মানুষকে সত্যের সামনে নত হতে বাধা দিতে পারে। তাই সত্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অহংকার, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও অন্যের প্রতি হিংসাকে বাধা হতে দেওয়া উচিত নয়।
হিংসা থেকে আত্মরক্ষা এবং নিজের অন্তরকে পবিত্র রাখার জন্য ইসলাম আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ দেখিয়েছে।
প্রথমত: আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা।
সুরা ফালাক ও সুরা নাস নিয়মিত পাঠ করা উচিত। বিশেষ করে সুরা ফালাকে আল্লাহ তাআলা হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন,
“আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”
সুরা আল-ফালাক, আয়াত ৫-এর ভাবার্থ
দ্বিতীয়ত: অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত রাখার দোয়া করা।
পবিত্র কোরআনে মুমিনদের একটি সুন্দর দোয়া শেখানো হয়েছে
“হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে। আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।”
সুরা আল-হাশর, আয়াত ১০-এর ভাবার্থ
এই দোয়া শুধু মুখে পড়ার বিষয় নয়; বরং এর অর্থ হৃদয়ে ধারণ করে অন্যের প্রতি ক্ষমাশীলতা, আন্তরিকতা ও কল্যাণকামিতা গড়ে তোলাও জরুরি।
তৃতীয়ত: আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া।
অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার পরিবর্তে নিজের প্রাপ্ত নিয়ামতগুলো স্মরণ করা উচিত। কারও সম্পদ, সৌন্দর্য, প্রতিভা কিংবা সামাজিক মর্যাদা দেখে হতাশ না হয়ে নিজের উন্নতির জন্য চেষ্টা করতে হবে। অন্যের নিয়ামত নষ্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করে নিজের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইতে হবে।
চতুর্থত: অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে শেখা।
অন্যের ভালো কিছু অর্জিত হলে তার জন্য দোয়া করা, অভিনন্দন জানানো এবং নিজের জীবনেও উন্নতির জন্য চেষ্টা করা অন্তরের হিংসা কমাতে সহায়তা করে। মনে রাখতে হবে, অন্যের সাফল্য মানেই নিজের ব্যর্থতা নয়। পৃথিবীতে সবার জন্য কল্যাণের সুযোগ রয়েছে।
পঞ্চমত: অন্যায়ের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা ও ন্যায়সংগত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
কেউ হিংসাবশত অপবাদ দিলে, ক্ষতি করার চেষ্টা করলে কিংবা অন্যায় আচরণ করলে তা নীরবে সহ্য করাই সব সময় একমাত্র সমাধান নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সত্য প্রকাশ করা, নিজের অধিকার রক্ষা করা এবং বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিশোধস্পৃহা, মিথ্যা অভিযোগ কিংবা অন্যায় আচরণের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া উচিত নয়।
ষষ্ঠত: ক্ষমাশীলতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
সব বিরোধের সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয় না। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে সংযম, দূরত্ব বজায় রাখা এবং আল্লাহর কাছে বিচার সোপর্দ করাই উত্তম। তবে ক্ষমাশীলতার অর্থ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া নয়; বরং নিজের আচরণকে অন্যায়ের ঊর্ধ্বে রাখা।
হিংসা মানুষের হৃদয়ে জন্ম নেওয়া এমন এক আগুন, যা অন্যকে পোড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত নিজের শান্তি, সম্পর্ক ও আত্মিক জীবনকে দগ্ধ করে। অন্যের নিয়ামত কেড়ে নেওয়ার চিন্তায় মগ্ন মানুষ ভুলে যায়—রিজিক, সম্মান ও জীবনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে।
একজন প্রকৃত মুমিন অন্যের পতন কামনা করে না; বরং নিজের সংশোধন কামনা করে। অন্যের সাফল্যে কষ্ট পায় না; বরং আল্লাহর কাছে নিজের জন্যও কল্যাণ প্রার্থনা করে। সে জানে, অন্যের নিয়ামত নষ্ট হলে নিজের নিয়ামত বৃদ্ধি পায় না, আর অন্যের সম্মান কমলে নিজের মর্যাদা বেড়ে যায় না।
তাই আসুন, আমরা হিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা, বিদ্বেষের পরিবর্তে ক্ষমা, অহংকারের পরিবর্তে বিনয় এবং প্রতিযোগিতার পরিবর্তে কল্যাণকামিতাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি। আমাদের অন্তর হোক ঈমানের আলোয় আলোকিত, আমাদের কথা হোক সত্য ও কল্যাণের বাহক, আর আমাদের আচরণ হোক মানুষের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার উৎস।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও সকল প্রকার আত্মিক ব্যাধি থেকে পবিত্র রাখুন। আমাদের অন্যের কল্যাণে আনন্দিত হওয়ার, নিজের নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।