1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ইউরোপ, আমেরিকা, আরব বিশ্ব ও বাংলাদেশে ধর্ষণ আইন ও বিচারব্যবস্থা: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি: উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায় জনমনে আতঙ্ক যোগদানের এক সপ্তাহের মাথায় প্রত্যাহার মৌলভীবাজারের এসপি সিলেটে ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, আটক ১ থানার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: ‘ন্যায়বিচারের বদলে হয়রানি’, বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২০২৬ সালের প্রথম ৫ মাসেই অন্তত ১৮০ শিশু ধর্ষণ এপ্রিল–মে ২০২৬: অপরাধ, সহিংসতা ও উদ্বেগে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ চায় অধিকাংশ নেটিজেন দেশে সংঘটিত অপকর্মের পেছনে জামায়াত জড়িত: দুদু

ধর্মীয় সহনশীলতা ও কুরবানীর সংস্কৃতি

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

ভারত বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টানসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই বহুত্ববাদী সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতা শান্তি বজায় রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত। বিশেষ করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে একে অপরের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া সামাজিক সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দু ধর্মে গরুকে পবিত্র হিসেবে দেখা হয়। বহু হিন্দু গরুকে “গোমাতা” হিসেবে সম্মান করেন এবং গরু হত্যা তাদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন। অন্যদিকে ইসলামে কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানী করা হয়। ইসলামী শরিয়তে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও উট সবই কুরবানীর জন্য বৈধ পশু।

এই বাস্তবতায় ভারতের অনেক মুসলমান সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহনশীলতার কথা বিবেচনা করে গরুর পরিবর্তে মহিষ, ছাগল বা ভেড়া কুরবানী করা উচিত বলে মনে করেন। কারণ ইসলাম শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় না, বরং শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও শিক্ষা দেয়। তাই একটি সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি করে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ধর্মীয় সহনশীলতা মানে নিজের ধর্ম ত্যাগ করা নয়; বরং নিজের বিশ্বাস বজায় রেখেও অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো। ইসলামের ইতিহাসেও প্রতিবেশী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সদাচরণের বহু উদাহরণ রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সবসময় পারস্পরিক শান্তি, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়েছেন।

ভারতের বহু অঞ্চলে মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে জীবনযাপন করছেন। কুরবানীর ক্ষেত্রেও অনেক পরিবার মহিষ বা ছাগল বেছে নিয়ে সামাজিক শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এতে একদিকে ধর্মীয় বিধানও পালন হয়, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও অটুট থাকে।

তবে এ বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার নয়। প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজস্ব অধিকার ও বিশ্বাস রয়েছে। তাই সহনশীলতার প্রকৃত অর্থ হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ এবং একে অপরের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করা।

বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় বিভাজন ও বিদ্বেষ যখন বাড়ছে, তখন সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা আরও বেশি প্রয়োজন। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে কেবল আইন নয়, মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার। ভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের বিশ্বাসকে সম্মান করলে সংঘাত কমে এবং সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে ওঠে।

 কুরবানী শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি ত্যাগ, মানবতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। আর ধর্মীয় সহনশীলতা হলো এমন একটি মূল্যবোধ, যা ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে একই সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে সহায়তা করে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংযম ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews