আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চলতি বছরে দেশটিতে এ পদ্ধতিতে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা স্টেট প্রিজনে ৪৭ বছর বয়সী রিচার্ড নাইটের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আদালতের নথি অনুসারে, ২০০২ সালে এক নারী ও তার শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে রিচার্ড নাইটকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ঘটনার সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে আসে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে বিশেষ কক্ষে রাখা হয় এবং শরীরে শিরার মাধ্যমে ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধাপে ধাপে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রাণঘাতী ইনজেকশনে তিন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি অচেতন বা ঘুমের অবস্থায় নেওয়ার জন্য, দ্বিতীয়টি শরীরের পেশি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের কার্যক্রম স্থবির করার জন্য এবং তৃতীয়টি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রয়োগ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক ভুলের ঝুঁকি থেকে যায়। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, জঘন্য অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বেশি। বিশেষ করে ফ্লোরিডায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড নীতিতে ভিন্নতা থাকলেও প্রাণঘাতী ইনজেকশন এখনও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।