1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলা: কাজী কেরামত আলীকে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দাবি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ঢাবির হলে সরানো হচ্ছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নাম, ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ ওসমান হাদিকে জামায়াতের হুমকির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের ইসলাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও নৈতিকতার প্রশ্ন ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা: জ্ঞানের আলোয় মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব ইসলামের দৃষ্টিতে হিংসার আগুন ও বিদ্বেষের মরণব্যাধি HRW Warns of Renewed Political Repression Amid Mass Arrests in Bangladesh গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ১২ ডিসেম্বরের আগেই সমঝোতার আশা Freedom of Expression Under Pressure in Bangladesh: Human Rights Concerns

ইসলামের দৃষ্টিতে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

ইসলামে মা-বাবার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে তাঁর ইবাদতের পরই মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। একজন সন্তানের জীবনে মা-বাবা সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাঁদের ভালোবাসা, ত্যাগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই সন্তান বড় হয়ে ওঠে। তাই ইসলামে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে মা-বাবার প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সম্মান প্রদর্শনই নয়, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজন পূরণ করা এবং কষ্ট না দেওয়া একজন সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ইসলামে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হিসেবে বিবেচিত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যে। অর্থাৎ মা-বাবাকে খুশি রাখতে পারলে আল্লাহও সন্তুষ্ট হন। অন্যদিকে তাঁদের কষ্ট দিলে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জিত হয়। তাই সন্তানদের উচিত সব সময় মা-বাবার সঙ্গে নম্র ও ভদ্র আচরণ করা।

বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার যত্ন নেওয়া সন্তানের অন্যতম বড় দায়িত্ব। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন তাঁদের প্রয়োজন হয় সন্তানের সেবা, সহানুভূতি ও সঙ্গ। ইসলামে মা-বাবার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করাকেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে ‘উফ’ শব্দটিও বলা যাবে না। বরং ভালোবাসা ও বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সন্তানরা ব্যস্ত জীবনের কারণে মা-বাবার খোঁজখবর ঠিকমতো রাখে না। কেউ কেউ বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করে বা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। মা-বাবা শুধু সন্তানের ভরণপোষণই করেন না, তাঁদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন। তাই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব।

মা-বাবার মৃত্যুর পরও সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাঁদের জন্য দোয়া করা, সাদকায়ে জারিয়া করা এবং তাঁদের অসমাপ্ত ভালো কাজগুলো সম্পন্ন করার মধ্য দিয়েও সন্তান কর্তব্য পালন করতে পারে। ইসলামে এটিকে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

একটি আদর্শ সমাজ গঠনে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্বশীল আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকলে সমাজেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই প্রত্যেক সন্তানের উচিত ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্ব পালন করা। কারণ মা-বাবার সন্তুষ্টিতেই নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews