আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এ দুর্যোগের মধ্যেই শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলের আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া ৫১ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। নতুন কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, বুধবারের ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একের পর এক অনুকম্পনে দেশজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চল এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্য। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করেছে সরকার। উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার রাত থেকে ওই এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা যাবে না।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে সরকার দাবি করেছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি প্রাণ উদ্ধারই অলৌকিক ঘটনার মতো। আমরা এই বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করব না।”
ভূমিকম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। স্বজন হারানোর শোক, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে দিন-রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।