জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মোদিকে দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন ‘টোটাল কিলার’। তবে ট্রাম্প শব্দটি ব্যবহার করেছেন রূপক অর্থে, যার মাধ্যমে তিনি মোদির দৃঢ় নেতৃত্ব ও দক্ষ দরকষাকষির সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, তিনি একজন অত্যন্ত কঠোর ও দক্ষ আলোচক, যার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “এই মানুষটিকে দেখুন। তাকে দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত মনে হয়, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন ‘টোটাল কিলার’। তবে তার ব্যক্তিত্ব এতটাই আকর্ষণীয় যে, তিনি সবাইকে বিস্মিত করেন। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকব, ভারত হোয়াইট হাউসে একজন প্রকৃত বন্ধুকে পাবে। এখানে উপস্থিত সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে।”
মোদিকে ‘ভদ্র কিন্তু দৃঢ়চেতা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “অনেকে বলেন তিনি খুবই ভালো মানুষ। আমি বলি, তিনি অত্যন্ত কঠোর এবং একজন দক্ষ দরকষাকষিকারী। তিনি ভারতীয় জনগণকে ভালোবাসেন, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও তার আন্তরিকতা রয়েছে। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। ভবিষ্যতে আমরা আবারও ভারত সফর করব।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ আসছে। নতুন কারখানা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভারতও যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে, যা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি। প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল।”
অন্যদিকে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
মোদি বলেন, “এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশা সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে। আপনি এবং আমি একমত যে বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত সবসময় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন এবং বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।”