ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ ও সহিংসতা বেড়েছে বলে দাবি করেছে ‘সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন’-এর ‘ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই এই তিন মাসে ভারতে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এবং ১০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ভারতে মুসলিম নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৪ জনে। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীদের দায়ী করা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, একই সময়ে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, গণহারে আটক এবং জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, আসাম, কাশ্মীর ও পশ্চিমবঙ্গে কথিত ভুয়া ‘এনকাউন্টার’, হেফাজতে মৃত্যু এবং জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টি রাজ্যে দুই মাসেরও কম সময়ে অন্তত ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া আটটি রাজ্যে অন্তত ২১টি উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজারের বেশি মুসলিমের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক শিশু এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে। এসব বক্তব্য বৈষম্যমূলক পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ও মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক বিতাড়ন অব্যাহত থাকার দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মুসলিমদের অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে এমন নতুন আইন ও নীতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এসব তথ্য ও পরিসংখ্যান ‘ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’-এর প্রতিবেদনের দাবি। ঘটনাগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য, সরকারি বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।