আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বার্তা এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনজীবনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাত দীর্ঘ আট মাসেও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা ঘিরে আঞ্চলিক দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে তারা আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী ও বিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন বাতিল এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতার জন্য কয়েকটি শর্তের কথাও জানানো হয়েছে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নয়, পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিমান চলাচল এবং প্রবাসীদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে, নাকি অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের মুখে পড়বে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: CNN