তীব্র গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, বদহজম ও অম্বলের সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময় অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে বাজারের কোমল পানীয় বা প্যাকেটজাত জুসের দিকে ঝুঁকেন। তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এসব পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক উপাদান শরীরের নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঘরোয়া শরবত ও ডিটক্স ড্রিংক সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। এসব পানীয় শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি পানিশূন্যতা দূর করে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ডাবের পানি ও চিয়া বীজের ড্রিংক
গরমে সবচেয়ে উপকারী পানীয়গুলোর মধ্যে ডাবের পানি অন্যতম। এতে প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট থাকায় শরীর দ্রুত সতেজ হয়। এক গ্লাস ডাবের পানিতে এক চামচ ভেজানো চিয়া বীজ ও কয়েকটি পুদিনাপাতা মিশিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় স্বাস্থ্যকর ডিটক্স ড্রিংক। এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি ক্লান্তি কমাতেও সাহায্য করে।
কাঁচা আমের শরবত
গরমে হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা পেতে কাঁচা আমের শরবত বেশ জনপ্রিয়। কাঁচা আম সেদ্ধ করে এর পাল্প বের করে নিতে হবে। এরপর এতে বিট লবণ, ভাজা জিরা গুঁড়ো ও পুদিনাপাতা মিশিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু শরবত। এটি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তি ফেরাতেও কার্যকর।
ঘোল বা মাঠা
টকদই, পানি, বিট লবণ ও সামান্য জিরা গুঁড়ো দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ঘোল বা মাঠা। চাইলে পুদিনাপাতা যোগ করা যেতে পারে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে এবং পেট ঠান্ডা রাখে।
বেলের শরবত
গরমের আরেকটি জনপ্রিয় পানীয় হলো বেলের শরবত। একটি পাকা বেলের শাঁস বের করে ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর স্বাদমতো চিনি বা গুড় মিশিয়ে পরিবেশন করা যায়। এটি হজমে সহায়ক এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর।
ছাতুর শরবত
রোদ থেকে ফিরে দ্রুত শক্তি ফেরাতে ছাতুর শরবত দারুণ উপকারী। পানিতে ছাতু গুলিয়ে তাতে চিনি, বিট লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করা যায় এই পানীয়। এটি দীর্ঘসময় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কেন ঘরোয়া পানীয় বেশি উপকারী?
পুষ্টিবিদদের মতে, ঘরে তৈরি পানীয়ে কৃত্রিম রাসায়নিক থাকে না। ফলে এগুলো শরীরের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। এছাড়া প্রাকৃতিক ফল ও উপাদানে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গরমে কোমল পানীয়ের বদলে বেশি করে পানি, ফলের শরবত ও প্রাকৃতিক ড্রিংক পান করা উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম রংযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাও জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে ঘরোয়া শরবত ও ডিটক্স ড্রিংক হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান। সহজলভ্য উপাদানে তৈরি এসব পানীয় শরীরকে ঠান্ডা, সতেজ ও সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।