অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘদিনের অপশাসনের পর নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়েছে এ কথা উল্লেখ করে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
রবিবার (৩ মে) রাতে বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং সেবামুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে জনকল্যাণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং সর্বক্ষেত্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নেওয়া কর্মসূচি, নীতি ও প্রকল্পের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এ সময় তিনি আক্ষেপ করে জানান, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই প্রথা পুনরায় চালু করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ মজুতদারি রোধ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে।
দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মাঠ প্রশাসনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক ও জাতীয় নেতাদের অবদান স্মরণ করেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।