নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে এক নারীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহান নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার স্বামী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। স্বামীর আইনি সহায়তার জন্য তিনি ফারহানের কাছে গেলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় গোপন ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধারণ করে পরবর্তীতে ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
নারীর দাবি, গত এক বছর ধরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতি মাসে তিন থেকে চারবার তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল ফারহান ও তার সহযোগী আরমান মিলে তাকে গণধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল ঢাকার কদমতলী থানায় ফারহান ও আরমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার সঙ্গে ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট, ফোনালাপের রেকর্ড এবং হুমকির বিভিন্ন প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিচার দাবি করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান ফারহান। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামনে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তাকে বিতর্কিত করতেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তার বক্তব্য। ঘটনার দিন তিনি হাসপাতালে ছিলেন বলেও দাবি করেন ফারহান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।