ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরে ভারতে অবস্থান থেকে বাংলাদেশে ফিরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। তবে কবে এবং কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা আদালতের নাম উল্লেখ করেননি।
শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান। তাঁর ভাষ্য, দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চলছে এবং মৃত্যুও যদি আসে, তবে তা নিজের দেশেই হোক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দলের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান এবং এর মাধ্যমে বর্তমান কর্তৃপক্ষের অবস্থান পরীক্ষা করতে চান।
রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়, বর্তমান সরকার যখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভারতে যাওয়ার পর এই প্রথমবার দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার চিঠি দিচ্ছে, তবে তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফিরবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর বা দলের অন্য নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও রয়টার্স কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, ২০২৪ সালের গণআন্দোলন দমনে সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি তাঁদের দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন এবং তাঁর বিশ্বাস, আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে জনগণ পুরো বিষয়টি মূল্যায়নের সুযোগ পাবে। তবে দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ইতোমধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে দণ্ডিত করা হলেও জনগণের রায়ের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত।