দেশের চিত্র প্রতিবেদন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর হাদি দাবি করেছেন, তার ভাইকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিএনপির কিছু নেতা, জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা জড়িত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে ওমর হাদি অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমিরের একজন ঘনিষ্ঠ সহকারীর ভূমিকা হত্যাকাণ্ডের পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কিছু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
শরীফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পরিচিতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানী ঢাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ছয় দিন পর তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ওমর হাদি অভিযোগ করেছিলেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ তার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা।
এদিকে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা সীমান্ত এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে, যাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদির রাজনৈতিক সংগঠনও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, শুধুমাত্র কয়েকজন ব্যক্তিকে দায়ী করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে না; বরং পুরো ঘটনার পেছনে কারা ছিল তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার পূর্বে জাতিসংঘের সহায়তায় একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে বিএনপি, জামায়াত বা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ব্যক্তি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ এখনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।