ডিম পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে শিশুদের টিফিন সবখানেই ডিমের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু খাবারের সঙ্গে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য একসঙ্গে খেলে হজমের সমস্যা, অস্বস্তি বা পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ক্ষেত্রেই এসব সংমিশ্রণ সবার জন্য সমান ক্ষতিকর এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা ও হজমক্ষমতার কারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নিচে ডিমের সঙ্গে যেসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, সেগুলো তুলে ধরা হলো—
সয়াবিনের দুধ ও ডিম একসঙ্গে খেলে কিছু মানুষের হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই এ দুটি খাবার একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।
ডিম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চা বা কফি পান না করার পরামর্শ দেন অনেক পুষ্টিবিদ। কারণ এতে হজমে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। প্রয়োজনে ডিম খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি পান করা ভালো।
ডিম খাওয়ার পরপরই আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো। এতে আয়রন শোষণে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রেখে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।
ডিমের সঙ্গে অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা ডিপ-ফ্রাই খাবার খেলে হজমে চাপ পড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যালোরি ও চর্বি শরীরে প্রবেশ করে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ডিমের সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের এ ধরনের খাদ্যসংমিশ্রণে সতর্ক থাকা উচিত।
অনেকেই সকালের নাশতায় ডিম, কলা ও পাউরুটি একসঙ্গে খেয়ে থাকেন। যদিও অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হওয়ার শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবে কারও কারও হজমে অস্বস্তি বা পেট ভার লাগতে পারে। এমন সমস্যা হলে আলাদা সময়ে খাওয়াই ভালো।
ডিম ও পনির দুটিই উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের হজমে সমস্যা হতে পারে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের আশঙ্কাও থাকে।
ডিম ও মাংস উভয়ই প্রোটিনসমৃদ্ধ। তাই একবেলায় অতিরিক্ত পরিমাণে একসঙ্গে খেলে হজমে চাপ পড়তে পারে এবং মোট ক্যালোরি গ্রহণও বেড়ে যায়। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। তবে এটি কীভাবে এবং কতটুকু পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় রেখে খাদ্যতালিকা তৈরি করলে ডিমের সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব। কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই উত্তম।