1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
এআই দিয়ে ভুয়া অশ্লীল ভিডিও তৈরি, আইনি ব্যবস্থার কথা জানালেন এমপি নাসের রহমান পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৯ পুলিশ সদস্য কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে যুবকদের নেতৃত্ব দিতে হবে: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ‘জুলাই নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, শহীদদের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে হবে’: মাহমুদা মিতু দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বেনজীর, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা: পারিবারিক সূত্র হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা রাশিয়া-চীন ইরানকে সহায়তা করলে ‘কঠিন পরিণতি’, ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে আটকে ৬ হাজার নাবিক, দ্রুত উদ্ধার চাইল জাতিসংঘ আল্টিমেটামের শেষ দিনে মোদির বার্তা, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিশেষ আদালতের আশ্বাস পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির

মহানবী (সা.)-এর আতিথেয়তা: মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক

 হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীক, যার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মমতা, সৌজন্য ও উদারতার অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে তার আতিথেয়তা ছিল অতুলনীয় যা কেবল একটি সামাজিক আচরণ নয়, বরং ছিল ঈমান ও নৈতিকতার অংশ।

রাসুল (সা.) অতিথিকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই সম্মান করতেন। তিনি কখনো নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেননি; বরং অতিথির চাহিদাকেই প্রাধান্য দিতেন। তার ঘর ছিল অত্যন্ত সরল, কিন্তু হৃদয় ছিল উদারতায় ভরপুর। ফলে ধনী-গরিব, পরিচিত অপরিচিত সবাই তার কাছে সমান মর্যাদা পেতেন।

তিনি ঘোষণা করেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের সমাদর করে।” (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিস আতিথেয়তাকে ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে, যা ইসলামের সামাজিক শিক্ষার গভীরতা নির্দেশ করে।

সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনায় মহানবী (সা.)-এর আতিথেয়তার বহু হৃদয়স্পর্শী ঘটনা পাওয়া যায়। হযরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন, একবার তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলে তিনি নিজের বালিশ এগিয়ে দিয়ে সম্মান জানান। তিনি বলেন, “যখন কোনো মুসলমান তার ভাইয়ের সম্মানে কিছু এগিয়ে দেয়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।” এই ছোট্ট আচরণেই প্রকাশ পায় তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

মহানবী (সা.)-এর আতিথেয়তা ছিল সর্বজনীন। তিনি কখনো ধনী-গরিব বা মুসলিম-অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য করেননি। বরং তিনি সতর্ক করেছেন ,যে দাওয়াতে শুধু ধনীদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং গরিবদের বাদ দেওয়া হয়, তা নিকৃষ্টতম খাবার। (সহিহ বুখারি)। তার এই শিক্ষা সমাজে সাম্য ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে।

ইতিহাসে এমন ঘটনাও পাওয়া যায়, যেখানে তার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। এক সাহাবির বর্ণনায় জানা যায়, ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি রাসুল (সা.)-এর অতিথি হয়েছিলেন এবং তার আন্তরিকতা ও যত্নে এতটাই প্রভাবিত হন যে পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। এটি প্রমাণ করে, তার আচরণই ছিল দাওয়াতের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

এমনকি শত্রুর প্রতিও তিনি আতিথেয়তায় কোনো কার্পণ্য করেননি। মুহারিব গোত্রের কিছু মানুষ যখন মদিনায় আসে, তখন তাদের আপ্যায়নের জন্য তিনি বিশেষ ব্যবস্থা করেন। তাদের খাদ্য ও থাকার সুব্যবস্থা করা হয়। এতে তারা এতটাই মুগ্ধ হয় যে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করে।

অতিথিদের অসৌজন্যমূলক আচরণেও তিনি অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। এক গ্রাম্য লোক মসজিদে নববীতে প্রস্রাব করে ফেললে সাহাবিরা তাকে বাধা দিতে গেলে রাসুল (সা.) তাদের থামিয়ে দেন এবং নম্রভাবে বিষয়টি সমাধান করেন। তিনি বলেন, “তোমরা কঠোর হওয়ার জন্য নয়, বরং নম্রতার জন্য প্রেরিত হয়েছ।” এই শিক্ষা আজও মানবিক আচরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মেহমানদের খাতির-যত্নে তিনি কখনো সংকোচ বোধ করতেন না। তিনি অতিথির সঙ্গে একই পাত্রে বসে খেতেন এবং অতিথি পরিপূর্ণভাবে না খাওয়া পর্যন্ত নিজে উঠতেন না। ভালো খাবারগুলো অতিথির দিকে এগিয়ে দিতেন। অনেক সময় নিজের পরিবারকে অভুক্ত রেখে অতিথিকে খাওয়ানোর নজিরও রয়েছে তার জীবনে।

বিদায়কালে অতিথিদের উপহার দেওয়া ছিল তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি মেহমানদের পথখরচ ও উপহার দিতেন। কখনো বেশি দিতে না পারলে অল্প হলেও দিতেন এবং বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এতে অতিথির প্রতি তার আন্তরিকতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মহানবী (সা.)-এর আতিথেয়তা শুধু একটি ঐতিহাসিক বিষয় নয়; এটি মুসলমানদের জন্য এক অনুপম আদর্শ। আধুনিক যুগের ব্যস্ত ও আত্মকেন্দ্রিক জীবনে এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—অতিথিকে সম্মান করা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য।

তার এই আদর্শ যদি আমরা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাবে। মহানবী (সা.)-এর আতিথেয়তার শিক্ষা তাই আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং অনুকরণীয়।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews